Skip Ribbon Commands
Skip to main content

শিরোনাম
ভাষা গননার ক্ষেত্রে ভারত সরকারের প্রচেষ্টা
 

বিবরন

TDIL প্রোগ্রামার ডিরেক্টর স্বরন লতা TDIL এর সম্পর্কে এবং ভাষা গননার ক্ষেত্রে তার চেষ্টার বিষয়ে জানিয়েছেন। কোয়েম্বাটুরে (তামিলনাডু, ভারত) অনুষ্ঠিত ইন্টারনেট তামিল কনফারেন্সে তার করা একটি প্রেজেন্টেশান থেকে নিন্মোক্ত বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।

বিষয় বস্তু:

ভারত তাঁর বৈচিত্রের জন্যে বিশেষ করে ভাষা এবং সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বৈচিত্রের জন্যে বিখ্যাত। ভারতের অর্ন্তগত প্রতিটি রাজ্যই অসাধারণ। যদিও হিন্দী ভারতের সরকারী ভাষা এবং ইংরাজী ভাষাকে সাধারনের যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করা হয়, তবুও ভারত সরকার মনে করে যে একটি অধিক শক্তিশালী জাতীয় বন্ধন তৈরী করতে হলে আঞ্চলিক ভাষার ওপর বেশী জোর দেওয়াটা ভীষণ জরুরী। কম্পিউটারে আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার এবং তার উপস্থিতির জন্যে সরকার অনেক রকম প্রয়াস চালিয়েছে। টেকনোলজি ডিপার্টমেন্ট ইণ্ডিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ (TDIL) প্রোগ্রাম হল ভারত সরকারের এমনই একটি ল্যাঙ্গুয়েজ কম্পুটিং প্রচেষ্টা। TDIL প্রোগ্রামের ডিরেক্টর স্বরন লতা, TDIL সম্পর্কে এবং ল্যাঙ্গুয়েজ কম্পুটিং ক্ষেত্রে তার প্রচেষ্টার কথা বলেন। কোয়েম্বাটুরে (তামিলনাডু, ভারত) অনুষ্ঠিত ইন্টারনেট তামিল কনফারেন্সে তার দেখানো একটি প্রেজেন্টেসান থেকে নিন্মোক্ত বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।

“আমরা যখন বলি যে ভারত পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে অনন্য দেশ, তখন মোটেও খুব বাঢ়িয়ে বলা হয়না। আমাদের দেশে ২২ টি নথিভুক্ত ভাষা এবং ১১ টি চলতি লিপি আছে। এক একটা লিপি একের চেয়ে বেশী ভাষায় ব্যবহূত হয়। আজকাল তথ্য প্রযুক্তির যুগ চলছে। এটা খুবই সুখের কথা যে কম্পিউটার প্রযুক্তি ভাষার সীমারেখাকে ভেঙে দিয়েছে এবং সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষের মাঝে স্থানীয় ভাষা ব্যবহারের মাধ্যমে একটা যোগসুত্র তৈরী করেছে। তাই দেশের ভেতর বিভিন্ন ভাষার মানুষের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে ভাষার ব্যবহার ভীষণ প্রয়োজন”।  

 

টেকনোলজি ডেভলাপমেন্ট ফর ইণ্ডিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ (TDIL) প্রোগ্রামটি ভারত সরকারের ডিপার্টমেন্ট অফ ইনর্ফমেসান টেকনোলজি (DIT) র একটি প্রচেষ্টা, যারা তথ্য প্রসারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরী করেন যাতে যন্ত্র মানবের সাহায্যে ভারতীয় ভাষায় মতের আদান প্রদান করা সম্ভব হয় এবং একাধিক ভাষায় জ্ঞানের কৌশলকে কাজে লাগানো যায়। TDIL প্রাথমিক তথ্য প্রযুক্তি তৈরীর প্রয়াসকে ঊন্নত করতে এবং সেইসব ভাষাকে বিনামূল্যে সর্বসাধারনের ব্যবহার উপযোগী করে তুলে সচেষ্ট হয়।

“ভারতীয় ভাষায় সফটওয়্যারের উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হ’ল ভাষায় বিদ্যান ব্যক্তিদের এবং সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের একত্রিত করা। TDIL ২২ টি ভারতীয় স্বীকৃত ভাষার উন্নয়ন এবং প্রযুক্তির জন্যে যথেষ্ট অর্থ সংগ্রহ করেছে। TDIL ভারতীয় ভাষায় বিদ্যান ব্যক্তিদের এবং সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যে একটি সেতুর মত কাজ করছে। এইক্ষেত্রে হিন্দী এবং তামিল ভাষাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কেননা হিন্দী ভারতের বেশীর ভাগ অংশেই ব্যবহূত হয় এবং তামিল ভাষাটিকে বিদেশে বসবাসকারী অর্থাৎ NRI গোষ্ঠীর এবং রাজ্য সরকারের চাহিদা মেনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে”।

“১৯৯০-৯১ সালে TDIL প্রোগ্রামটির জন্ম। TDIL এর দ্বারা সমর্থিত প্রজেক্টটি লিখনির উন্নয়নের জন্যে, ও.সি.আর, টেক্সট্‌ থেকে কথা বলা, মেশিন ট্রান্সলেসান এবং তথ্য তৈরীরে ক্ষেত্রে সাধারন সফটওয়্যারের ব্যবহার ইত্যাদির ক্ষেত্রে সাহায্য করে। বিশেষ মানযুক্ত কীবোর্ড লে-আউটের এবং তথ্যের আদান প্রদানের জন্যে প্রয়োজনীয় আভ্যন্তরীন সংকেতও  প্রকাশিত হয়। এরফলে ভারতীয় ভাষায় তথ্য তৈরীর ক্ষেত্রে আমাদের মনে বিশ্বাস অনেক গুনে বেড়ে যায়”।

“কিন্তু, ভারতীয় ভাষার উন্নয়ন এবং ভাষা প্রযুক্তির সমাধানের জন্যে সরকারের চাহিদা এবং মানুষের মনে আশা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। তাই ২০০০-২০০১ সালে, TDIL এর জন্যে সরকার মিশন নির্ভর প্রোগ্রাম চালু করে। তখনাকার সময়ে TDIL এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ৭ টা প্রধান বিষয়ের ওপর নজর দেওয়া, সেগুলো হ’লঃ জ্ঞানের খোঁজ, জ্ঞানসমৃর্দ্ধ সরঞ্জাম, অনুবাদ নির্ভর পদ্ধতি, মানবযন্ত্র পদ্ধতির মিলনস্থল, স্থানীয়করন, প্রমিতকরন এবং ভাষা প্রযুক্তি মান সম্পদ উন্নয়ন। ১৮ টা ভারতীয় ভাষাকে সাহায্য দানের জন্যে ভারতীয় ভাষা প্রযুক্তি সমাধানের (RC-ILTS) উদ্দেশ্যে ১৩ টা রিসোর্স সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে”।

“TDIL ডাটা সেন্টার বিনামূল্যে ফন্ট এবং সফটওয়্যার সরঞ্জাম বেশ কিছু ভারতীয় ভাষার জন্যে তৈরী করেছে, সেই ভাষাগুলো হ’লঃ অসমীয়া, হিন্দী, কানাড়া, মালয়ালম, মারাঠি, ওরিয়া, পাঞ্জাবী, তামিল, তেলেগু, উর্দু, গুজরাটি, সংস্কৃত, বরো, ডোগরী, মৈথিলী, নেপালি, বাংলা, কাশ্মি্রী, কোঙ্কনী, মনিপুরি, সান্তালি এবং সিন্ধী”।

 

“গোটা দেশে TDIL এর এই মূহূর্ত্তে ১৩ টা রিসোর্স সেন্টার আছে। সেগুলো হলঃ ইণ্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি, কানপুর (হিন্দী, নেপালি), ইণ্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি, মুম্বাই (মারাঠি, কোঙ্কনী), ইণ্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি, গুয়াহাটী (অসমীয়া, মনিপুরি), ইণ্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ সায়েন্স, বাঙ্গালোর (কানাড়া, সংস্কৃত), ইণ্ডিয়ান ষ্টেটিক্যাল ইন্সটিটিউট, কলকাতা (বাংলা), জওয়াহরলাল নেহেরু ইউনির্ভাসিটি, নিউ দিল্লী ফরেন লেঙ্গুয়েজ (জাপানীজ, চাইনিজ) এবং সংস্কৃত (ভাষা শিক্ষা পদ্ধতি), ইউনির্ভাসিটি অফ হায়দ্রাবাদ, হায়দ্রাবাদ (তেলেগু), আন্না ইউনির্ভাসিটি, চেন্নাই (তামিল), এম.এস. ইউনির্ভাসিটি, বোর্ড (গুজরাটি), উৎকল ইউনির্ভাসিটি, ডিপার্টমেন্ট অফ কম্পিউটার সায়েন্স এণ্ড এপ্লিকেসান (ওরিয়া), থাপার ইন্সটিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এণ্ড টেকনোলজি, পাতিয়ালা (পাঞ্জাবী), ই.আর.ডি.সি.আই, থিরুভন্থপুরম (মালায়ালম) এবং সি.ড্যাক. (উর্দ্দু, সিন্ধী, কাশ্মীর)”।

TDIL এর মাধ্যেম আমরা এক বিশাল পৃথিবীতে প্রবেশ করতে চাইছি যেখান থেকে ইংরাজী ভাষার বন্ধন ভেঙে বেঢ়িয়ে আসতে পারব এবং এই ক্ষেত্রে ন্যাশনাল রোল আউট প্রচেষ্টাই প্রথম পদক্ষেপ। ন্যাশনাল রোল আউট প্ল্যান বা পরিকল্পনা। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে পুরো ২২ টা ভাষার সফটওয়্যার সরঞ্জাম এবং ফন্ট সর্বসাধারনের জন্যে প্রকাশিত করা হয়েছে। ন্যাশনাল রোল আউট প্ল্যান CD-ROM এ বিশেষভাবে নীচে দেওয়া সফটওয়্যার সরঞ্জাম পাওয়া যায়ঃ ফন্ট, কী-বোর্ড ড্রাইভার্স, কনর্ভাটার, এডিটর, টাইপিং টিউটর, ইন্টিগ্রেটেড ওয়ার্ড প্রসেসার, ভারতীয় ওপেন অফিস, বাইলিঙ্গুয়েল ডিক্সনারীজ, স্পেল চেক, ট্রান্সলিটারেসান টুল, ব্রাউজার, ই-মেইল ক্লায়েন্ট, ম্যাসেঞ্জার, টেক্সট টু স্পীচ সিষ্টেম এবং ও সি আর। এই CD-ROM গুলো ডাউনলোড করে নিতে পারেন অথবা www.ildc.gov.in এবং  www.ildc.in প্রবেশ করেও ডাউনলোড করে নিতে পারেন। এছাড়াও নাম নথিভুক্ত করে ডাউনলোড করলে ILDC আপনাকে প্রদত্ত ঠিকানায় CD-ROM পাঠাবে। এটা অবশ্যই একদম বিনামূল্যে পাবেন।

“অধিকাংশ বড় মাপের TDIL প্রজেক্টগুলো হল এইরূপঃ ইংরাজী থেকে ভারতীয় ভাষার মেশিন অনুবাদ পদ্ধতি (CDAC, Pune), ইংরাজী থেকে ভারতীয় ভাষায় মেশিন অনুবাদ (MT) পদ্ধতি তৎসহ এঙ্গলা-ভারতী পদ্ধতি (IIT Kanpur), ভারতীয় ভাষা থেকে ভারতীয় ভাষায় মেশিন অনুবাদ পদ্ধতি  (IIIT Hyderabad), সংস্কৃত-হিন্দী মেশিন অনুবাদ (হায়দ্রাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়,  JNU), ভারতীয় ভাষার জন্যে (IIT Delhi) তথ্য বিশ্লেষণ এবং সনাক্তকরন পদ্ধতি, অন-লাইন হাতের লেখা সনাক্তকরন (I.I.Sc, Bangalore), ক্রস লিঙ্গুয়েল ইনর্ফমেশান এক্সেস (IIT, Bombay), স্পীস কর্পোরা এণ্ড টেকনোলজিস (IIIT Chennai) এবং ইন্ডিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ কর্পোরা ইনিসিয়েটিভ (JNU, New Delhi)।”

“ভাষা প্রযুক্তি ভারতীয় অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মেরুদণ্ড স্বরূপ এবং এই সফটওয়্যার রপ্তানি শিল্পের ক্ষেত্রে এক আশার সঞ্চার করে, ফলে স্থানীয় আই টি শিল্প যথেষ্ট বলীয়ান হয় এবং তার যথোপযুক্ত বিকাশ ঘটে। আজ এই প্রজেক্টটিকে প্রযুক্তি উন্নয়নের সীমানা ছাড়িয়ে রাজ্য সরকার এবং অন্যান্য মন্ত্রনালেয়র প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমাজের বৃহত্তর অংশের মানুষের জন্যে ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে হবে”।


 

This site uses Unicode and Open Type fonts for Indic Languages. Powered by Microsoft SharePoint 2013.
©2016 Microsoft Corporation. All rights reserved.