Skip Ribbon Commands
Skip to main content

ডঃ নীলাদ্র্রী শেখর দাস এর সাক্ষাত্কার, সংস্থা: ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিকাল ইনস্টিটিউট.

 

বর্তমানে ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিকাল ইনস্টিটিউট, কলকাতার ভাষাতত্ত্ব গবেষণা ইউনিটের সাথে যুক্ত ডঃ নীলাদ্র্রী শেখর দাস-এর সাক্ষাত্কার

(প্রকল্পসমূহ)ডঃ নীলাদ্র্রী শেখর দাস ভারতীয় ভাষায় প্রযুক্তি বিকাশ, ভারতীয় ভাষা প্রযুক্তি সলিউশন ইত্যাদির মতো প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ, প্রশংসনীয় কাজ করেছেন৷ বর্তমানে তিনি বাংলার জন্য জেনারেশন অফ ডিফারেন্সিয়েটেড ইলেক্ট্রনিক লেক্সিকন, বাংলা ইলেক্ট্রনিক্স স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গোয়েজ রিসোর্সেসের নলেজ-ভিত্তিক ডকুমেন্টেশন এবং আর্কাইভিং ইন্ডিয়ান ল্যাঙ্গোয়েজ করপোরা ইনিশিয়েটিভ (আইএলসিআই) এবং আরও অনেক প্রকল্পের সাথে যুক্ত৷
(বিশেষজ্ঞতা)তার বিশেষজ্ঞ ক্ষেত্রগুলির মধ্যে রয়েছে করপাস ভাষাতত্ত্ব, ভাষা প্রযুক্তি, সাধারণ ভাষা প্রক্রিয়াকরণ, যান্ত্রিক অনুবাদ ইত্যাদি৷ তিনি এ জাতীয় এবং সাধারণ ভাষাতত্ত্ব ক্ষেত্রগুলিতে উল্লেখযোগ্য গবেষণা সম্পর্কিত কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত৷

(শিক্ষাসম্পর্কিত)তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্বে পি.এইচডি সহ তিনি আইআইটি কানপুর এবং আরসিসি, যাদবপুর থেকে অ্যাডভান্সড ন্যাচারাল ল্যাঙ্গোয়েজ প্রসেসিংয়ে প্রযুক্তিগত শিক্ষা গ্রহণ করেছেন৷
(প্রকাশিত)ডঃ দাশ প্রচুর বই, গবেষণা পত্র এবং বইয়ের পর্যালোচনা লিখেছেন৷ তাঁর পেপারগুলি প্রচুর বই এবং জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, বহু সম্মেলন, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সেমিনারে উপস্থাপিত হয়েছে৷ তাঁর বই ও পেপারগুলি ভাষাতত্ত্বের বহু গবেষণা ও স্নাতোকত্তোর স্তরের জন্য প্রফেসরদের দ্বারা নিয়মিতভাবে প্রস্তাবিত৷

(স্বপ্ন) তাঁর কাজের ভবিষ্যত পরিকল্পনায় রয়েছে ভারতীয় ভাষায় জেনারেশন অফ লার্নার করপোরা; ভাষা এবং পাঠ্য প্রক্রিয়াকরণের টুলগুলির বিকাশ; ইংরাজী ও এবং ভারতীয় ভাষাগুলিতে দ্বিভাষিক অভিধানের প্রজন্ম; ভারতীয় ভাষায় ব্যবহার ভিত্তিক অনলাইন অভিধানের বিকাশ; ভারতীয় ভাষাগুলিতে বৈদ্যুতিন ভাষার বিকাশ ইত্যাদি৷

প্রঃ ডঃ নীলাদ্রী শেখর দাস, ভাষাতত্ত্বের বৈশিষ্ট্যগুলি আপনাকে কীভাবে মুগ্ধ করে?

সত্যি কথা বলতে আমি ভাষাতত্ত্ব নিয়েই বেঁচে থাকি৷ আমি যখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছিলাম সে সময় আমার কৈশোরের শেষে যে কয়েকটি বিষয় আমাকে মুগ্ধ করেছিল এটি তার মধ্যে একটি৷ আমি ভাগ্যবান যে আমার প্যাশন এবং পেশা ভাষাতত্ত্বে এসে একই বিন্দুতে মিলিত হয়েছে এবং এটি আমাকে ভাষা এবং ভাষাতত্ত্বের সেবায় নিজেকে সঁপে দেওয়ার অঙ্গীকারকে উত্সাহিত করেছে৷ গত 18 বছর ধরে, বেশি না হলেও আমি আমার প্রতিদিনের জীবনের অর্ধেক সময়টি ভাষাতত্ত্বের জন্য ব্যয় করছি৷ আমি ভাষাতত্ত্বকে আমার দ্বিতীয় মা হিসাবে মনে করি এবং তাই তার তপস্যায় রত আমি৷ ভাষাতত্ত্ব আমার প্যাশন, পেশা এবং সময় কাটানোর উপায়৷ আমার কিছু সিনিয়র প্রায়শই আমাকে বলেন. "যদি ভাষাতত্ত্ব এই পৃথিবী থেকে মুছে যায় তবে নীলাদ্রী সঙ্গে সঙ্গেই মারা যাবে"৷

প্রঃ আপনার প্রোফাইলটি পড়ে, ডঃ দাসের প্যাশন এবং পেশাটিকে অনুভব করতে পারবেন! আমরা কী জানতে পারি 'ভাষা' বলতে আপনার কাছে ঠিক কী?

আমার কাছে ভাষা শুধু যোগাযোগ এবং প্রকাশের মাধ্যম নয়৷ তার চেয়ে অনেক বেশী৷

প্রঃ একটু বিশদে বলুন?

হ্যাঁ, আমি প্রায়শই বলি যে "আপনার ভাষাই আপনার পরিচয়"৷ এর অর্থ হ'ল ভাষার মাধ্যমেই আমরা কোনও ব্যক্তিকে 'চিনতে' পারি: আমরা সে যে ভাষা ব্যবহার করে, সে কেমন মানুষ, সে যে সমাজে বাস করে সেটি সম্পর্কে, যে গোষ্ঠীর সাথে ইন্ট্যারাক্ট করে সেটি, সে যে সময় এবং জায়গায় থাকে সেটি, তার অ্যাটিচিউড, তার উদ্দীষ্ট লক্ষ্য এবং সমগ্র ভাষাতত্বের কর্মকান্ডগুলি ঘটে যায় সেই প্রসঙ্গ সম্পর্কে জানতে পারি৷ এছাড়াও কোনও ভাষার বৈশিষ্ট্য এবং ফিচারগুলি যখন ইতিহাস ও সংস্কৃতি, অতীত ও বর্তমান এবং সভ্যতার বৃদ্ধি হিসাবে ব্যবহৃত হয় তখন মুগ্ধকর হয়ে ওঠে৷

প্রঃ ঐতিহাসিকের মতো?

একজন ভাষাতত্ত্ববিদ হিসাবে আমি নিজেকে এক আবিষ্কারক ও খননকারী হিসাবে মনে করি, যিনি সময়ের বালুকণায় খোদিত জীবন, বেঁচে থাকা এবং সমাজ সম্পদকে খুঁড়ে বার করার চেষ্টা করেন৷

প্রঃ অবশ্যই৷ এটিই সমাজের পক্ষে উত্কৃষ্ট সেবা৷ ডঃ দাস আমরা ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিকাল ইনস্টিটিউটে আপনার কাজের শুরুটি সম্পর্কে জানতে চাই?

আমি 1992 সালে ভুবনেশ্বরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ অ্যাপ্লায়েড ল্যাঙ্গোয়েজ সায়েন্সেসে ভাষাতাত্ত্বিক হিসাবে কাজ শুরু করি৷ 1995 সাল থেকে আমি কলকাতার ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিকাল ইনস্টিটিউটে করপাস লিঙ্গুইস্টিক্স, ভাষা প্রযুক্তি, সাধারণ ভাষা প্রক্রিয়া এবং ফলিত ভাষাতত্ত্বের ক্ষেত্রে আমার ভাষা এবং আমার লোকেদের সেবা দানের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছি৷

প্রঃ ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিকাল ইনস্টিটিউটের বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী? কী কী সুযোগ সুবিধা এখানে রয়েছে?

যদিও কলকাতার ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিকাল ইনস্টিটিউট নীতিগতভাবে মানব জ্ঞানের সকল ক্ষেত্রে জাতি এবং তার মানুষের উন্নতির জন্য গবেষণা ও বিকাশকে উত্সাহিত করে, বাস্তবে ভাষাতত্ত্বের উপর এখানে সত সন্তানের মতো আচরণ করা হয় যে প্রায়শই অপুষ্টি ও ভুল চিকিত্সার শিকারের সহজ লক্ষ্য হয়ে ওঠে৷ একজন ভাষাত্ত্বিক হিসাবে আমি ইনস্টিটিউটের প্রশাসনের তরফে বিমাতৃসুলভ আচরণের জন্য এখান থেকে খুব দুর্বল প্রশাসকীয় এবং পরিকাঠামোগত সমর্থন পাই৷

প্রঃ ওহ৷ এমনটি হয়ত আর থাকবে না৷

ভাল৷পরিস্থিতিটি এখনও চলেছে এবং আমার ধারণা অদূর ভবিষ্যতে এই দৃশ্যটির পরিবর্তনের কোনও সম্ভাবনা নেই৷

প্রঃ ডঃ দাস, আমরা ভাষাতত্ত্ব সম্পর্কে আরও বেশি জানতে চাই৷ গণিত কীভাবে গণনীয় ভাষাতত্ত্বের সাথে সম্পর্কিত তা আমাদের বলবেন?

গণিত, গণনীয় ভাষাতত্ত্বের এক সম্মিলিত অংশ৷ গণনীয় ভাষাতত্ত্বের সাথে সম্পর্কিত প্রচুর গবেষণা এবং বিকাশমূলক কার্য প্রত্যক্ষভাবে গাণিতিক মডেল, বিধি ও গণনার সাথে জড়িত৷ উদাহরণস্বরূপ, ডিজিটাল ল্যাঙ্গোয়েজ করপোরা সংগ্রহ, করপাস প্রক্রিয়াকরণ, অথরশিপ অ্যাট্রিবিউশন, তথ্যগত পুনরুদ্ধার, ডেটা মাইনিং, যান্ত্রিক অনুবাদ, যান্ত্রিক শিক্ষা, পার্সিং, স্পিচ সিন্থেসিস, টেক্সট-টু-স্পিচ কনভারশন ইত্যাদির ক্ষেত্রে আমাদের লক্ষ্য পূরণের জন্য গাণিতিক মডেলগুলি, পদ্ধতিগুলি, কৌশল এবং ইন্টারপ্রিটেশনশের প্রত্যক্ষ প্রয়োগের দরকার৷

প্রঃ গণনীয় ভাষাতত্ত্বের সাথে বিজ্ঞান কীভাবে জড়িত?

গণনীয় ভাষাতত্ত্বের প্রায় সমস্ত উপ ক্ষেত্রগুলি ডেটা সংগ্রহ, বিভাগীকরণ, বিশ্লেষণ, ইন্টারপ্রিটেশন, ইনফারেন্স ডিডাকশন পাশাপাশি তত্ত্ব, টুলস, কৌশল এবং সিস্টেমের বিকাশে ডেটা ও তথ্যের প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষভাবে বিজ্ঞানের পথ অনুসরণ করে৷

প্রঃ তার মানে এ শাখায় একজনের ভাষা, গণিত এবং বিজ্ঞানের জ্ঞান থাকা উচিত?

সত্যি কথা বলতে, গণনীয় ভাষাতত্ত্ব এক ভিন্ন ধরণের শাখা যেখানে ভাষা ও বিজ্ঞানের সমান ভূমিকা রয়েছে৷ গণিত, পরিসংখ্যান, পদার্থবিদ্যা, জীববিদ্যা, ধ্বনিবিজ্ঞান, মনস্তত্ত্ব, স্নায়ুবিদ্যা, কগনিটিভ সায়েন্স, মানবজাতিতত্ত্ব, ভূগোল, নৃতত্ত্ববিদ্যা, সমাজবিদ্যা ইত্যাদি থেকে তথ্য গণনীয় ভাষাতত্ত্বের জন্য কয়েকটি বিশেষ বিকাশের সিস্টেম, ডিভাইস, সরঞ্জাম এবং কৌশলের ক্ষেত্রে অপরিহার্য৷

প্রঃ পরিসংখ্যানও? পরিসংখ্যান কীভাবে গণনীয় ভাষাতত্ত্বের সাথে সম্পর্কিত?

পরিসংখ্যানও প্রত্যক্ষভাবে গণনীয় ভাষাতত্ত্বের সাথে জড়িত৷ বিশেষত ভাষা ডেটা সংগ্রহ, করপাস সংকলন, ভাষা প্রক্রিয়াকরণ, ভাষা ডেটা পুনরুদ্ধার ও বিশ্লেষণ, বিবিধ পরিসংখ্যান তত্ত্ব ও পদ্ধতিগুলি প্রায়শই গণনীয় ভাষাতত্ত্বে ব্যবহার করা হয়৷

প্রঃ তার মানে?

যেমন, যখন আমি ভারতীয় ভাষাগুলির (বিশেষত বাংলার জন্য) জন্য টেক্সট করপোরা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করছিলাম, তখন আমাকে চি-স্ক্যোয়ার টেক্সট, অ্যানোভা টেস্ট, পিয়ারসন কো-রিলেশন, বহুমাত্রিক স্কেলিং, ফ্যাক্টর বিশ্লেষণ ইত্যাদি সহ বেশ কয়েকটি পরিসংখ্যানের প্রক্রিয়া অক্ষরগুলির টায়ার বিশ্লেষণ, শব্দে বানান ভুল চিহ্নিত করা, টেক্সটে প্রকৃত শব্দ ত্রুটি খুঁজে বার করা, শব্দের গড় দৈর্ঘ্য বার করা ইত্যাদির ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হয়েছিল৷

প্রঃ বিষয়টি খুব আকর্ষণীয়৷ ডঃ দাস, বাংলা এবং/অথবা অন্য কোনও ভারতীয ভাষাগুলিতে ইতিহাস, ডায়ালেক্ট ইত্যাদির মতো কী কী ভাষাতত্ত্ব সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্য দেখতে পাওয়া যায়?

যে কোনও ভারতীয় ভাষাতেই কম বেশি এই বৈশিষ্ট্যগুলি থাকে৷ এখানে বাংলার উল্লেখ নিয়ে ব্যাখ্যা করা হলো৷

ইতিহাস: বাংলা আজ বিশ্বের অন্যতম সর্বাধিক বলা (পঞ্চম বা ষষ্ঠ ক্রমে আছে) ভাষা৷ অন্যান্য পূর্ব ইন্দো-আর্য ভাষাগুলির মতো, বাংলা ভারতীয় উপমহাদেশের পূর্ব মধ্য ভারতীয় ভাষাগুলি থেকে উত্পত্তি লাভ করেছে৷ ঐতিহাসিকভাবে, বাংলার মধ্য যুগ থেকেই বাংলাতে তার শব্দসম্ভার ও ব্যাকরণের ক্ষেত্রে সংস্কৃতের এক বিরাট প্রভাব রয়েছে৷ এই ক্ষেত্রে বাংলা এবং মরাঠি খুব কাছাকাছি কারণ উভয় ভাষাতেই প্রচুর সংস্কৃত শব্দসম্ভার রয়েছে অন্যদিকে হিন্দি এবং পঞ্জাবি, সিন্ধি ও গুজরাতির মতো ভাষাগুলি আরবী ও ফারসী প্রভাবযুক্ত৷

সরকারি মর্যাদা: যদিও এটি পশ্চিমবঙ্গ এবং ত্রিপুরার সরকারি ভাষা হিসাবে স্বীকৃত, এটি আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের মতো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, ঝাড়খণ্ড, বিহার এবং ভারতের অন্য অংশে গুরুত্বপূর্ণ ভাষা হিসাবে ব্যবহৃত হয়৷

ডায়েলেক্ট বা উপভাষা: কথ্য বাংলার আঞ্চলিক পার্থক্য একটি উপভাষার ব্যাপ্তি গঠন করেছে৷ উনবিংশ শতাব্দীর শেষের এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে বাংলার প্রমাণীকরণের প্রক্রিয়া চলাকালীন কলকাতার (বাংলার সাংস্কৃতিক এবং প্রশাসনিক রাজধানী) আশেপাশের ভাষা প্রামাণিক রূপ হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে৷

কথ্য এবং লিখিত রূপে পার্থক্যসমূহ: বাংলার কথ্য এবং লিখিত রূপে কোনও পার্থক্যের পরিস্থিতি না থাকলেও কিছু পণ্ডিত এটিকে ভুল করে পার্থক্য হিসাবে চিহ্নিত করেছেন৷ ভাষার দুটি শৈলী যা পৃথক শব্দসম্ভার এবং বাক্যগঠন রীতি নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে তা হ'ল: সাধুভাষা এবং চলিতভাষা৷ উদাহরণ হিসাবে, ভারতের জাতীয় অ্যান্থেম (অর্থাত জনগণমন অধিনায়ক জয় হে) এবং জাতীয় সংগীত বন্দেমাতরম সাধুভাষাতে রচিত৷
লেখার পদ্ধতি: বাংলা লেখার পদ্ধতি সত্যি করে সম্পূর্ণভাবে বর্ণমালানুযায়ী নয়৷ পূর্ব নাগরী লিপির একটি রূপ এই বাংলা লিপি যা পুরো পূর্বভারত জুড়ে (অসম, পশ্চিমবঙ্গ, মণিপুর এবং বিহারের মিথিলা অঞ্চলে) এবং বাংলাদেশে ব্যবহৃত হয়৷ এই লিপির অনন্যতা এর ব্যঞ্জনবর্ণে এবং স্তবকে রয়েছে, যেখানে এটির মুক্ত উচ্চারণে স্বরবর্ণটি 'অন্তর্গঠিত' অবস্থায় থাকে৷

লেখার পদ্ধতি: বাংলা লেখার পদ্ধতি সত্যি করে সম্পূর্ণভাবে বর্ণমালানুযায়ী নয়৷ পূর্ব নাগরী লিপির একটি রূপ এই বাংলা লিপি যা পুরো পূর্বভারত জুড়ে (অসম, পশ্চিমবঙ্গ, মণিপুর এবং বিহারের মিথিলা অঞ্চলে) এবং বাংলাদেশে ব্যবহৃত হয়৷ এই লিপির অনন্যতা এর ব্যঞ্জনবর্ণে এবং স্তবকে রয়েছে, যেখানে এটির মুক্ত উচ্চারণে স্বরবর্ণটি 'অন্তর্গঠিত' অবস্থায় থাকে৷

বানান-উচ্চারণে অমিল: উনবিংশ শতাব্দীতে ঈষত সংশোধন সত্ত্বেও বাংলা বানান রীতি সংস্কৃতর ব্যবহারের ভিত্তিতে এবং এভাবে কিছু শব্দ একত্রিকরণ যা লিখিত রূপে পাওয়া যায় তা হিসাবে নেওয়া হয় না৷

ধ্বনিবিজ্ঞান: সমধ্বনিগুচ্ছ বলে মনে হওয়ার আবিষ্কার বাংলাতে 29টি ব্যঞ্জনবর্ণ এবং 14টি স্বরবর্ণ রয়েছে (7টি মৌখিক + 7 টি নাসিক্য স্বরবর্ণ)৷

ভাষাটিতে দু'টি স্বরবর্ণ বা স্বরধ্বনির সম্মিলিত উচ্চারণের (স্বরবর্ণের মিশ্রণ) এক বিরাট সম্ভার রয়েছে যা একই শব্দাংশের মধ্যে ঘটে থাকে৷ বাংলা শব্দের ক্ষেত্রে, কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ক্ষেত্র ছাড়া একটানা সুরে কথা বা স্বরের তীব্রতার খুব সামান্যই গুরুত্ব রয়েছে, যদিও একটানা সুরে কথা বাক্যে এক তাত্পর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে৷ বাংলায় স্বরবর্ণের দৈর্ঘ্য বৈপরীত্যযুক্ত নয়৷ সমস্ত স্বরবর্ণ সমান হওয়ার কারণে 'হ্রস্ব স্বরবর্ণ' এবং 'দীর্ঘ স্বরবর্ণ'র মধ্যে কোনও অর্থবোধক তফাত নেই৷

শব্দ গঠন ও বাক্য গঠন বিদ্যা: বাংলায় বিশেষ্য পদগুলির কোনও নির্দিষ্ট লিঙ্গ নেই, যার ফলে বিশেষণপদে স্বর পরিবর্তনে ন্যূনতম পরিবর্তন ঘটে৷ তবে, বিশেষ্য এবং সর্বনামগুলি (কোনও বাক্যে তাদের কাজের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়) চারটি রূপে ভীষণভাবে পরিবর্তিত হয় অন্যদিকে ক্রিয়াপদগুলি ভীষণভাবে অনুবদ্ধ হয়৷ ফলস্বরূপ, বাংলাতে ক্রিয়াপদগুলি লিঙ্গ এবং বিশেষ্যের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয় না যা হিন্দিতে দেখা যায়৷ বাংলা বেশিরভাগ ইন্দো-আর্য ভাষাগুলির থেকে শূন্য কপুলাতে আলাদা, যেখানে কপুলা বা সংযোজক 'হওয়া' বেশিরভাগ সময়ই বর্তমান কালে ব্যবহৃত হয় না৷ এরূপে 'he is a teacher' হ'ল সে শিক্ষক (আক্ষরিকভাবে 'he teacher')৷ এই ক্ষেত্রে বাংলার রুশ ও হাঙ্গেরিয় ভাষার সাথে মিল রয়েছে)৷

শব্দসম্ভার: আধুনিক বাংলা শব্দগুলির উত্স হ'ল তদ্ভব, তত্সম এবং দেশি এবং বিদেশি৷ বাংলায় প্রায় 100,000 এর মতো পৃথক শব্দ রয়েছে, যার মধ্যে 50,000 তত্সম (প্রত্যক্ষভাবে সংস্কৃত থেকে আসা), 21,100 তদ্ভব এবং বাকিগুলি বিদেশী (বিদেশীভাষা থেকে ধার করা) ও দেশী (অস্ট্রো এশিয়াটিক থেকে ধার করা) শব্দ হিসাবে বিবেচ্য হয়৷ ইউরোপীয়, মুঘল, আরব, তুর্কি, পারস্যবাসী, আফগান এবং পূর্ব ভারতীয়দের সাথে কয়েক শতাব্দীর পরিচয়ের দরুণ বাংলায় বিদেশী ভাষাগুলি থেকে প্রচুর শব্দ এসেছে৷

ডঃ নীলাদ্রী শেখর দাস, আপনার সাথে কথা বলে খুব ভাল লাগলো৷ আমাদের পাঠকরা আপনার কাছে কৃতজ্ঞ থাকবেন৷ আপনাকে ধন্যবাদ!

This site uses Unicode and Open Type fonts for Indic Languages. Powered by Microsoft SharePoint
©2017 Microsoft Corporation. All rights reserved.