Skip Ribbon Commands
Skip to main content

 সাক্ষাৎকারঃ  শ্রী এ. কুমারন, মাইক্রোসফট্‌ রিসার্স, ভারত

মেশিন অনুবাদ এবং ভারতীয় ভাষা  

বর্ননা

আমরা অনেকেই মাইক্রোসফট্‌ অনুবাদক অথবা গুগোল অনুবাদ ব্যবহার করি। আবার আমাদের অনেকেই বাবেলফিসও ব্যবহার করি। অনেক সময়েই আমরা ভাবতাম যদি এই ধরনের সরঞ্জাম ভারতীয় ভাষায়ও থাকত! নিঃসন্দেহে আমাদের পক্ষে একটা দারুন উপকার হত, কেননা আমাদের দেশে যেখানে ২২ টা বিভিন্ন ভাষা ব্যবহূত হয় সেখানে এর ব্যবহারের ফলে দারুন উপকার হত। এমন অনেকেই এই পেশায় ইতিমধ্যে আছেন যারা প্রবল ভাবে এবং সফল ভাবে ভারতীয় ভাষায় মেশিন অনুবাদের (MT) জন্যে কাজ করে যাচ্ছেন। ভাষাইণ্ডিয়া ভারতীয় MT র ক্ষেত্রে একজন ওস্তাদ ব্যক্তিকে এই ক্ষেত্রে পরিচয় করাতে পেরে ভীষণভাবে আনন্দিত। তিনি আর কেউই নন্‌, তিনি হলেন মাইক্রোসফট্‌ রিসার্স ইণ্ডিয়ার শ্রী এ. কুমারন।

বিষয় বস্তু

আমরা অনেকেই মাইক্রোসফট্‌ অনুবাদক অথবা গুগোল অনুবাদ ব্যবহার করি। আবার আমাদের অনেকেই বাবেলফিসও ব্যবহার করি। এতে অনেক রকমের কুশলী সরঞ্জাম আছে যেগুলোর দ্বারা আমরা যখন কোন অচেনা ভাষার বিষয় বস্তুকে ইংরেজীতে অনুবাদ করতে যাই তখন সেগুলো ব্যবহার হয়। অনেক সময়েই আমরা মনে মনে ভাবতাম যে এই ধরনের কুশলী সরঞ্জাম যদি ভারতীয় ভাষার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করতে পারতাম। এমনটা হলে আমাদের পক্ষে যেখানে ২২ টা বিভিন্ন ভাষা ব্যবহূত হয়ে থাকে সেখানে এই সরঞ্জাম খুবই কাজে আসত। কিন্তু এমনটা কি আদৌ সম্ভব হবে ?


হতাশ হবেন না! এমন অনেকেই এই পেশায় ইতিমধ্যে আছেন যারা প্রবল ভাবে ও সফল ভাবে ভারতীয় ভাষায় মেশিন অনুবাদকের (MT) ব্যবহারের জন্যে কাজ করে যাচ্ছেন। ভাষাইণ্ডিয়া ভারতীয় MT র ক্ষেত্রে একজন ওস্তাদ ব্যক্তিকে এই ক্ষেত্রে পরিচয় করাতে পেরে ভীষণভাবে আনন্দিত হচ্ছে। তিনি আর কেউই নন্‌, তিনি হলেন মাইক্রোসফট্‌ রিসার্স ইণ্ডিয়ার শ্রী এ. কুমারন।


তিনি বর্তমানে মাল্টিলিঙ্গূয়েল সিষ্টেম রিসার্স দলটিকে পরিচালনা করছেন। তিনি ইণ্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ সায়েন্স, বাঙ্গালোর, ভারত থেকে পি এইচ ডি করেছেন, চেন্নাই, ভারত ব্যাচেলার্স ডিগ্রী করেছেন এবং ইউ.এস.এ. র নিউ জার্সির রোটগের্স ইউনির্ভাসিটি থেকে মাষ্টার্স ডিগ্রী করেছেন। ভাষা গননার এবং মেশিন অনুবাদকের ক্ষেত্রে তিনি তার বিশাল অভিজ্ঞতাকে আমাদের সাথে ভাগ করে নেন। এখানে ভাষাইণ্ডিয়া টী্মকে শ্রী কুমারনের দেওয়া সাক্ষাৎকারের  কিছু সারমর্ম তুলে ধরা হ’ল।

 

যখন মেশিন অনুবাদকের (MT) ক্ষেত্রে গবেষনার কাজ আরম্ভ হল তখন মানুষের মনে ভীষণ সন্দেহ জেগেছিল। আজ আমরা তার সুফল দেখতে পাচ্ছি। আমরা মাইক্রোসফট্‌ অনুবাদক, গুগোল অনুবাদ অথবা ইয়াহু বাবেলফিস ব্যবহার করছি। MT এবং ভাষা গননার কাজে একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি হিসাবে, মেশিন অনুবাদকের বিষয়ে সংক্ষিপ্ত করে কি কিছু জানাবেন ?

 

বিগত ৭০ এর দশকে ‘মেকানাইজিং’ অনুবাদ পদ্ধতির বিষয়ে চিন্তা করাটা সম্ভব হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে এবং ব্যবহারিকে জীবনে এটা সম্ভব হয় ২০ শতকে গিয়ে। প্রথম অবস্থায় এই পদ্ধতিটা দুটো ভাষায় ব্যবহার যোগ্য একটা বিশাল মাপের ডিক্সনেরী ছিল, যেখানে উৎস ভাষার শব্দের সংযোগ ঘটানো হত এবং তার একটা অথবা দুটো সম মাপের লক্ষ্য বা টার্গেট ভাষার শব্দার্থ অনুবাদ করা হত, এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে সঠিক শব্দের নিয়মেরও উল্লেখ থাকত।

 

সরকার এবং ব্যক্তিগত ক্ষেত্র থেকে MT উন্নয়নের ক্ষেত্রে অনেক উত্থাপক ছিল, কেননা তারা বুঝতে পেরেছিলেন যে মানব সমাজে কাজের ক্ষেত্রে কোন এক সময় MT এক বিশাল সহায়ক হিসাবে পরিগণিত হবে। কিন্তু বহু বছরের গবেষণায় তারা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। ১৯৬০ এর প্রথম দিকে তারা লক্ষ্য করেছিলেন যে “যেহেতু মেশিন অনুবাদ ভীষণ ধীর গতির ছিল, তাই তৎক্ষনাত সেটা তখন খুব একটা কাজের বলে মনে হয়নি অথবা তার ভবিষ্যতবানী করা সম্ভব হয়নি, এছাড়াও এটা খুব একটা সঠিক হতনা এবং এর পেছনে যেরকম খরচা হত সেটা মানুষের দ্বারা করা অনুবাদের মতই হত”। এর ফলে MT র অগ্রগতি ঢিমে তালে চলছিল। 

 

যাহোক অনেক দেশের সাথে কানাডা, ফ্রান্স এবং জার্মানীতে এর ওপর গবেষনা কিন্তু জারী ছিল। ১৯৭০ সালে আধুনিক MT র প্রথম মডেলের রূপটা (সিষ্ট্রার্ন সিষ্টেম) আমরা দেখতে পাই। ১৯৮০ সালটা বিভিন্ন দেশ খেকে আগত এক বিশাল সংখ্যক MT পদ্ধতি দেখতে পায়। কম্পিউটারের সহজলভ্যতা এবং টেক্সট প্রসেসিং সফটওয়্যার এই দুইয়ে মিলে সস্তায় এক বিশাল MT পদ্ধতির বাজার খুলে ফেলে। এখানে আমরা একটা কথা উল্লেখ করতে চাই সেটা হ’ল অধিকাংশ মডেলই ছিল ‘রুল বেজড’ মডেল।

 

বিগত দশক ও তার অর্দ্ধেক সময়ে MT গবেষণার ক্ষেত্রে একটা নতুন প্রয়োগকৌশল ও দলের ধারাকে আমরা দেখতে পাই। এই প্রয়োগকৌশলে নির্দিষ্ট কার্যকরন আমরা আপনা আপনি শিখতে পারি যখন আমরা ডাটা সঠিক হস্তশিল্পের প্রশিক্ষনের জন্যে দিই। এই প্রয়োগকৌশলকে বৃহৎ অর্থে আমরা সংখ্যাতাত্বিক প্রশিক্ষন অথবা মেশিন প্রশিক্ষনের গননাকার্যের পদ্ধতি বলতে পারি।

 

নতুন প্রয়োগকৌশলে বৈশিষ্ট্যসূচক বিশেষত্বগুলোতে কোন বিষয়বস্তুর ব্যাখ্যা অথবা বাক্যগঠন সংক্রান্ত বা শব্দার্থতত্ত্ব সংক্রান্ত আইন টেক্সটের ব্যাখ্যা অথবা ভাষার শব্দকোষের ব্যবহার করা হত না, কিন্তু নতুন ভূমিকায় আগের থেকে খানিকটা আলাদা হিসাবে বড় টেক্সট লিখনির ক্ষেত্রে ‘রুল-বেসড্‌’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

 

MT র ক্ষেত্রে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়ে যেতে যেতেই কম্পিউটারের সাহায্যে অনুবাদের (CAT) বিষয়ে আমরা জানতে পারি। এই ধারাটা পরবর্তী কালে ১৯৯০ সালের পরেও জারী ছিল। পরবর্তী বিষয়টা অবশ্য ইতিহাস হয়ে আছে। আজকের দিনে অনলাইনে যারা কাজ করেন তারা অনলাইন নেটওয়ার্ক পরিষেবার মধ্যেই MT সুবিধে ভোগ করতে পারেন। তার একটা উৎকৃষ্ট উদাহরন হ’ল মাইক্রোসফট অনুবাদক। পেশাগত দিক দিয়ে যারা অনুবাদকের কাজ করেন তারা CAT এর নানান সরঞ্জাম এই ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন যাতে তাদের কাজের উৎপাদন ক্ষমতা বৃর্দ্ধি পায় ও নির্ভূল কাজ করতে পারেন। 

 

আপনি কি আমাদের ‘রুল বেজড’ প্রয়োগকৌশল এবং ‘ষ্ট্যাটিক্যাল’ প্রশিক্ষনের বিষয়ে আরো কিছু ব্যাখ্যা করবেন?

 

‘রুল বেজড’ প্রয়োগকৌশলে ধরুন আপনি শুধুমাত্র স্কুলে একটা বাক্যের ব্যাকারনের গঠনের কিছু ডায়াগ্রাম শিখতে পারতেন, এই সফটওয়্যারটি আপনাকে আপনার বইয়ের ব্যাকারনের ওপর নির্ভর করে সঠিক একটা ব্যাকারন সমেত প্রতিটি বাক্যের মডেল গঠন করে দেখাবে। এরপর ব্যাকারনের মডেলের বইয়ের ভাষা ব্যাকারনের অনুবাদ পরবর্তী ভাষার সাথে মিলিয়ে দেখা হবে। .

 

‘ষ্টেটিসটিক্যাল লার্নিং’ এর প্রয়োগ কৌশলে MT ইঞ্জিনটিকে বর্তমানের এক বিশাল সংখ্যক বিষয় বস্তু ও তার অনুবাদ যাকে “বাইলিঙ্গুয়েল টেক্সট্‌ কর্পোরা” বলা হয়। এই MT ইঞ্জিনটি বিশাল সংখ্যক ডাটা ব্যবহার করে এবং তার সাথে সংখ্যাতাত্বিক সামঞ্জষ্যপূর্ণ টেবিল তৈরী করে। এই সংখ্যাতাত্বিক তথ্যগুলো বিশেষ কিছু শব্দের সাম্ভাব্যতার ওপর নির্ভর করে সঠিক নির্নয়কে নির্দিষ্ট করে বা একটা ভাষার কোন বাক্য, একটা বিশেষ শব্দ, অথবা একটা বাক্যে  লক্ষ্যবস্তুর ভাষায় সঠিক অনুবাদ হয়েছে কিনা সেগুলো ঠিক করে দেয়।


অনুগ্রহ করে মনে রাখবেন যে এই পদ্ধতিটা কোন বিশেষ ভাষাভিত্তিক নয়। এটা যে কোন ভাষার ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যেতে পারে। যাহোক MT ইঞ্জিন থেকে দূর্দান্ত ফলাফল পেতে হলে বৈদ্যুতিন মাধ্যেমের একই রকম বিশাল টেক্সটের প্রয়োজন হয়।

 

আমরা পড়েছি এবং শুনেছি যে অনেক কোম্পানী এবং প্রতিষ্ঠান আজ ভারতীয় ভাষার MT সমাধান তৈরীর ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোন রকম সফলতার মুখ দেখতে পায়নি। এটা কবে হবে ? ইউরোপিয়ান অথবা আরবিক ভাষায় সহজলভ্য ‘মোটামুটি-কাজ চালাবার” একটা MT সমাধান সূচক বিষয় পাবার জন্যে আমাদের আর কতদিন অপেক্ষা করে থাকতে হবে?

 

আমি এই ক্ষেত্রে সময়ের কোন নির্দিষ্ট নির্ঘন্ট বেধে দিতে পারিনা। এই বিষয়ে গবেষনার কাজ চলছে। তবুও আমি বলতে পারি যে আজ থেকে পাঁচ বছর পর আমরা কিছু একটা সুফল হয়তো বা দেখতে পাব। এটা আবার সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করে প্রয়োজনীয় লিখনির ওপর। একটা সফল সংখ্যাতাত্বিক MT সমাধান সূচক আবিস্কার করার জন্যে আমাদের বিশাল পরিমানের লিখনি থাকতে হবে। আমাদের ভারতীয় ভাষায় অধিক পরিমানে ডিজিট্যাল বিষয়বস্তু নেই। এমনকি আমরা যদিও সমস্ত রকম ডিজিট্যাল ডাটাকে নেট থেকে সংগ্রহ করে নিই, তাহলেও সংগৃহিত বিষয়বস্তুটি চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট কম। 

 

আরো একটা পয়েন্ট আছে সেটা হল আমাদের ভারতীয় ভাষায়, বিশেষ করে দক্ষিন ভারতীয় ভাষায় সেগুলো অধিকভাবে সমাসবদ্ধ। এইক্ষেত্রে, যেগুলো সমাসবদ্ধ নয় সেগুলোর ক্ষেত্রে ভাষা থেকে কর্পোরা ভাষার বড় হওয়া চাই। প্রকৃতপক্ষে সঠিক সংকলনের অপ্রতুলতাই হল অনেক ভাষায় গননালবদ্ধ প্রচেষ্টায় ভারতীয় ভাষার প্রধান বাধা।

 

ভাষা গননার ক্ষেত্রে, বিশেষ করে মেশিনের দ্বারা অনুবাদের ক্ষেত্রে লিখনির কি ভূমিকা আছে, সে সম্পর্কে কি অনুগ্রহ করে আমাদের একটু বোঝাবেন ?

 

মোট তিন ধরনের লিখনি আছে। প্রথমেই বলি মনোলিঙ্গুয়েল বা এক ভাষা লিখনি। মনোলিঙ্গুয়েল লিখনি সাধারনতে কোন একটা নির্দিষ্ট মানের বিশাল মাপের মূল ভাষা থেকে সাধারন টেক্সট অনুবাদ, যেমনঃ জনপ্রিয় জনসংগঠন, খবরের কাগজ, টেলিভিসান ইত্যাদি। বিশাল মাপের মনোলিঙ্গুয়েল লিখনি সংগ্রহ করার ফলে ভাষা সংক্রান্ত কাজ-কর্মের ক্ষেত্রে দারুন উপকার হয়। উদাহরন স্বরূপে, কোন লিখনির সাথে যদি টীকা যোগ করতে হয় (ব্যক্তিগত নাম, সাধারন নাম, জায়গা, তারিখ, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি) নামের মাধ্যমে সনাক্তকরনের জন্যে ব্যবহার করা যেতে পারে এবং তথ্য বার করার কাজেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

তারপর হ’ল মাল্টিলিঙ্গুয়েল লিখনি। মাল্টিলিঙ্গুয়েল লিখনিতে সমান্তরাল ভাবে অনেক ধরনের লেখার সামঞ্জষ্য, তুলনা ইত্যাদি ঘটে। প্যারালাল কর্পোরা অথবা সমান্তরাল লিখনি একাধিক ভীষণ ভাবে জোট বন্ধনি বাক্য, যেখানে প্রতিটি জোট বন্ধনি বাক্যই একই শব্দার্থ বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশ করে। এই ধরনের লিখনি মেশিন অনুবাদ পদ্ধতির জন্যে তৈরী অবস্থাতেই পাওয়া যেতে পারে। একটা আর্টিকেলের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের লেখার ব্যাখ্যা আসলে বিভিন্ন ভাষার অনুবাদ সমান। তুলনামূলক লিখনিকে খুবই সফলতার সাথে MT র ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হয়। 

 

এখন আসি টীকা সমৃর্দ্ধ লিখনিতে। বিশাল মাপের টীকা যুক্ত লিখনি ব্যবহার হয় সাধারনত ভাষা সংক্রান্ত গবেষণায়। লেখার ওপর টীকা নির্ভর করে, উদাহরন হিসাবেঃ বাক্য সনাক্তকরনের জন্যে একটা জবরদস্ত টীকার প্রয়োজন হয় যেখানে নেম এনটিটি রিকগনেসান (NER) এর প্রয়োজন হয় লিখনির মধ্যে প্রত্যেককে নির্দিষ্ট করতে।

 

ভারতীয় ভাষায় বড় বড় লিখনি তৈরীর ক্ষেত্রে কি কি ধরনের চেষ্টার প্রয়োজন হয়? একটা ভালো MT সলিউসান পেতে আমরা কখন বিশাল মাপের লিখনি পাব ?

 

ভারতীয় ভাষায় সহজলভ্য লিখনিগুলো ভারতে, সেন্ট্রাল ইন্সটিটিউট অফ ইণ্ডিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ (CIIL) সংগ্রহ করে। যাহোক, এই লিখনিগুলো তুলনামূলক ভাবে ছোট্ট (প্রতি ভাষায় প্রায় ৩-৮ টা শব্দের ভেতর) প্রাথমিক ভাবে এগুলো কোন রকম টীকা ছাড়াই একাধিক ভাষার মনোলিঙ্গুয়েল টেক্সট সংগ্রাহক। যখন এই লিখনিগুলো ডাটা তৈরীর মূল কাজে ব্যবহূত হয়, তখন ভারতীয় ভাষাগুলোর ভাষাসংক্রান্ত গননাকার্যে ভলিউম এবং গুনাগুনগুলো তাৎপর্যপূর্ণভাবে বাড়াতে হয়।   

 

সম্প্রতি ভারত সরকারের অর্ন্তগত মিনিষ্ট্রী অফ হিউমেন রিসোর্স এণ্ড ডেভলাপমেন্ট সমস্ত ভাষায় নির্দিষ্ট মানযুক্ত ভাষা সংক্রান্ত লিখনি সংগ্রহ করার জন্যে লিঙ্গ্যুইস্টিক ডেটা কন্সরটিয়াম ফর ইণ্ডিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ (LDC-IL) আরম্ভ করে। একাধিক আ্যকাডেমিক এবং শিল্প সহযোগীরা একসাথে কাজ করছে যাতে এই বিষয়টি তারা নিজেদের হাতে পায়। আমরা আশা করতে পারি যে ভারতীয় ভাষায় শীঘ্রই আমরা প্রয়োজনীয় লিখনিগুলো তৈরীতে সফল হব।   

 

যদি বিষয়বস্তুটি কোন ডিজিট্যাল কৌশলের ভেতর রাখা হয় অথবা নেটের বিষয়বস্তুগুলো বিশাল লিখনি তৈরীর ক্ষেত্রে যথেষ্ট না হয়, তাহলে আমরা কিভাবে আমাদের লক্ষ্যে উপনীত হতে পারব ?

 

এখানে আমি কমিউনিটি-মতে অংশগ্রহনের সাথে ডাটা তৈরীতে জোর দেব। ভাষাসংক্রান্ত লিখনির জন্যে জনতার উৎসমূলকে গুরুত্ব দেওয়াটা ভীষণ জরুরী, কেননা ভাষাতত্ত্ব অথবা ভাষা বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন ধরনের টীকার প্রয়োজ হয়না, কিন্তু খুব সহজেই একজন স্থানীয় ভাষার বক্তার সেটা প্রয়োজন হয়।

 

ভারতীয় সমাজে কিভাবে MT ক্ষমতাসীন হতে যাচ্ছে ?

 

বহু শতাব্দী ধরেই গননার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উপকরনগুলো ইংরেজীতে কথা বলা মানুষের জন্যেই তৈরী হত। কিন্তু দূর্ভাগ্যের বিষয় হল পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ ইংরেজীতে কথা বলতে পারেন না। তাই তারা গননার এই সুবিধা হেকে বঞ্চিত হতেন। অনুগ্রহ করে নেটে উপলব্ধ এই বিষয় বস্তুগুলো দেখে নিন। ওয়েবে উপলব্ধ এই ধরনের তথ্যের অধিকাংশ বিষয়বস্তুগুলোই ইংরেজী ছাড়া অন্য ভাষায়ও পাওয়া যায়। এই ক্ষেত্রে পরিসংখ্যান নির্দ্ধারন করে যে আধিপত্যকারী মাল্টিলিঙ্গুয়েল প্রযুক্তির অবশ্যই উন্নতি করা উচিত যাতে ভাষার নিরপেক্ষ জটিল ভাষাতত্ত্ব গবেষনার গননা কার্যকে বৃহৎতর মানুষের মাঝে অতি দ্রত গতিতে পৌঁছে দেওয়া যায়। ভারতের মত দেশে আমরা অতিরিক্ত মোকাবিলার সন্মূখীন হই যেখান জনসংখ্যার অধিকাংশই ইংরেজী জানে না৩২, তাই স্থানীয় ভাষায় সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তিগুলো ভীষণ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

 

ভারতে মাইক্রোসফট্‌ গবেষণার ক্ষেত্রে আপনার অভিজ্ঞতার কিছুটা কি অনুগ্রহ করে আমাদের সাথে ভাগ করতে পারেন?

 

মাইক্রোসফটের ক্ষেত্রে আমরা একটা মস্ত দল। জুলাই ২০০৫ এ আমি ভারতে মাইক্রোসফট গবেষনার সাথে যুক্ত হই। ভাষার প্রতি, বিশেষ করে ভারতীয় ভাষার প্রতি আমার একটা গোপন প্রেম ছিল। মাইক্রোসফট রিহার্স ইণ্ডিয়ার দৌলতে আমি ভারতীয় ভাষাগুলোতে কাজ করার একটা বড় সুযোগ পাই।

 

বর্তমানে আমি ডাটা প্রস্তুতকারক প্রজেক্টের সহযোগী উইকিবাবেল নামের একটা সংস্থায় যুক্ত আছি, যারা পারস্পরিক নির্ভরতাযুক্ত একাধিক ভাষার বিষয়বস্তু এবং ভাষাসংক্রান্ত সমান্তরাল ডাটা তৈরী করে। এই প্রজেক্টের উদ্দেশ্য হল ভাষা ব্যবহারকারীদের জন্যে একটা স্বতলব্ধ প্লেটফর্ম তৈরী করা যেখানে সমান্তরাল ডাটার কাজ ও ষ্টেটিস্টিক্যাল মেশিন অনুবাদ পদ্ধতির জটিল গবেষণার কাজ করা যায়। 

 

আমার গবেষনার আগ্রহের ভেতর আছে মেশিনের দ্বারা অনুবাদ, ট্রান্সলিটারেশান এবং ভাষা সংক্রান্ত গবেষনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ডাটা তৈরীর বিভিন্ন উপায় সমূহ, যেমন খনির খবরের লিখনি থেকে শুরু করে, গোষ্ঠীগত সহযোগীতার ভিত্তি এবং ভাষাসংক্রান্ত খেলাধূলো পর্যন্ত। 

 

অন্তিম পর্যায়ে, ভারতীয় ভাষা মতে গননা কার্যে সিদ্ধ ভাষাইন্ডিয়াকে আপনি কি ভাবে দেখছেন?

 

যেকোন ভারতীয় ভাষায় গননাকার্যের জন্যে ভাষাইণ্ডিয়ার পোর্টেলটা একটা উদাহরন স্বরূপ। আমারা পাঠকগন অধিক সমৃদ্ধ বিষয়বস্তু এবং ভাষাইণ্ডিয়ায় আরো অধিক প্রানোচ্ছোল ফোরাম আশা করছি। ভাষাইণ্ডিয়ার জন্যে আমার শুভেচ্ছা রইল এবং ভারতীয় ভাষা গননাতে একটা শক্ত-পোক্ত জমি পাবার চেষ্টাকে স্বাগত জানাই।

 

This site uses Unicode and Open Type fonts for Indic Languages. Powered by Microsoft SharePoint 2013.
©2016 Microsoft Corporation. All rights reserved.